পশ্চিমবঙ্গ
বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-টিএমসিপি সং*ঘ*র্ষ, জখম দুই; পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
প্রকাশিত:
25 Aug 2026, 06:16 PM
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার বারাসতের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রসংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে এবিভিপি এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই ছাত্র জখম হয়েছেন। আহতদের বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
জখম দুই ছাত্রের নাম অভিষেক পাল ও অরূপ বিশ্বাস। তাঁদের এবিভিপি সমর্থক বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও উস্কানির অভিযোগ তুলেছে।
এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠকের দাবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপ বিশ্বাসকে কথা বলার নাম করে ডেকে নিয়ে টিএমসিপির এক কর্মী মারধর করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে এবিভিপির কয়েকজন ছাত্র ছাত্রাবাসে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এবিভিপির অভিযোগ, সেই সময় অরূপ এবং অভিষেককে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়।
অন্য দিকে, টিএমসিপির গিয়াস আলি ও রহমত মণ্ডলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, এবিভিপির কর্মীরাই বিনা প্ররোচনায় ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রদের মারধর ও ভাঙচুর চালান। টিএমসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের পক্ষেরও প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ছাত্র আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
ইতিমধ্যেই দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। ঠিক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র রাজনীতিকে ঘিরে এই সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলা বা সংঘর্ষের জন্য কোনও একটি পক্ষকে দায়ী করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।