পশ্চিমবঙ্গ
৬৫ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, ফারাক্কা দিয়ে ফের স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল
প্রকাশিত:
05 Sep 2026, 06:57 PM
অবশেষে স্বস্তি ফিরল রেলযাত্রীদের মধ্যে। টানা প্রায় ৬৫ ঘণ্টার মেরামতির পর নিউ ফরাক্কা হয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়েছে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় মেরামতি, পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর শনিবার সন্ধ্যা থেকেই ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
গত বুধবার ভোরে প্রবল বৃষ্টির জেরে মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের নীচের মাটি ধসে যায়। নিউ ফরাক্কা থেকে বারহারওয়ার দিকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে প্রায় ২০ মিটার অংশে মাটি বসে যাওয়ায় রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পূর্ব রেল আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জেরে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল ও ঘুরপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে কলকাতা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়েন। বিকল্প হিসেবে অনেক যাত্রীকে সড়কপথে যেতে হয়, যার ফলে বাস পরিষেবাতেও চাপ তৈরি হয়েছিল।
রেললাইন দ্রুত স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেন রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা। প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে নিয়ে দিন-রাত মেরামতির কাজ চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ও পাথর দিয়ে ট্র্যাকের নীচের অংশ মজবুত করার পাশাপাশি রেললাইনের স্থায়িত্ব এবং বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোও পরীক্ষা করা হয়। মেরামতির সময় নতুন করে মাটি ধসে যাওয়ার ঘটনাও কাজকে কিছুটা কঠিন করে তোলে।
শেষপর্যায়ে ট্র্যাকের স্থায়িত্ব যাচাই করতে পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ি চালানো হয়। পরীক্ষা সফল হওয়ার পর ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং ট্র্যাকের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে শুরু হয় বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
প্রায় তিন দিন ধরে চলা এই রেল-বিঘ্নের ফলে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল, পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ায় আপাতত তার অবসান ঘটল। তবে বর্ষার সময়ে রেললাইনের নীচের মাটি এবং আশপাশের অংশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখছে।