BREAKING
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন

ডার্বিতে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

ডার্বিতে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল
কলকাতা ডার্বির মঞ্চে এমন রাতের সাক্ষী বহুদিন হয়নি কলকাতা। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ২২ বছর পর ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। শুধু জয় নয়, একেবারে দাপটের সঙ্গে ফাইনাল জিতে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের আসরে ইতিহাস তৈরি করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই জয়ের ফলে ইস্টবেঙ্গলের ডুরান্ড কাপ শিরোপার সংখ্যা বেড়ে হল ১৭, যা মোহনবাগানের রেকর্ডের সমান। ২৩ আগস্ট কলকাতার ডার্বির মহারণে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই থাংমিনলাল বিপিন সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশে মোহনবাগানের জালে বল জড়ান বিপিন। গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসে সবুজ-মেরুন শিবিরে। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে, ১২ মিনিটে, ইস্টবেঙ্গলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এডমন্ড লালরিন্দিকা। এরপর শুরু হয় এডমন্ডের ব্যক্তিগত শো। ২২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে, ৪৪ মিনিটে, নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমন্ড। মাত্র ৪৫ মিনিটেই চার গোল হজম করে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মোহনবাগান। প্রথমার্ধের এই চার গোলের ঝড়ই শেষ পর্যন্ত ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে মোহনবাগান। মনবীর সিংয়ের গোলে ব্যবধান ৪-১ হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় লাল-হলুদ উৎসব। ফাইনালের সবচেয়ে বড় নায়ক অবশ্যই এডমন্ড লালরিন্দিকা। তাঁর হ্যাটট্রিক শুধু দলকে ট্রফি এনে দেয়নি, তাঁকে ম্যাচের অন্যতম স্মরণীয় নায়কও করে তুলেছে। একই সঙ্গে বিপিন সিংয়ের দ্রুত গোল ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যাচের গতিপথ শুরুতেই বদলে যায়। ইস্টবেঙ্গলের এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার পর ডুরান্ড কাপের ট্রফি ফিরল লাল-হলুদ তাঁবুতে। ২০০৪ সালের পর ফের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। আর সেটাও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ফাইনালে ৪-১ গোলে হারিয়ে। ফলে ২০২৬ সালের ডুরান্ড কাপ ফাইনাল শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এটি হয়ে রইল কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়—যেখানে এডমন্ডের হ্যাটট্রিক, বিপিনের গোল এবং ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ জয় লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিনের গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।